পাবনার ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তার ও আগের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শহরের রেলগেট থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত এলাকায় সাবেক পৌর সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮-১০ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান এবং সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তেজিত কর্মীরা দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ছাত্রনেতা নুরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সূত্রপাত ঈদের চাঁদরাতে জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের কর্মী আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে আজ সকালে পিন্টু গ্রুপের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে ফেরার পথে হাবিব গ্রুপের পাল্টা মিছিলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আগে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ তুলেছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে একপক্ষ মিছিল নিয়ে অন্যপক্ষের মুখোমুখি হলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।