1. admin@ddnnewsbd.com : admin : ddn newsbd
  2. mamahbubulalom@gmail.com : mahbubul alom : mahbubul alom
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন

পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কম, লোকসানে চাষি

জহুরুল ইসলাম, পাবনা
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ০ সময় দর্শন

পাবনার বিভিন্ন হাট-বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম হঠাৎ অর্ধেকে নেমে আসায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের হাটে প্রতিমণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। কিন্তু মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই দাম নেমে এসেছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এ বছর ১৬ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসে প্রায় দুই মাস আগে। তখন প্রথম দিকে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকায়। পরে দাম কমে এক পর্যায়ে নেমে আসে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। এরপর আবার বাড়তে বাড়তে তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় পৌঁছায়। এই দামে কৃষকরা প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ করছিলেন। কিন্তু শনিবার থেকে দ্রুত দাম কমতে শুরু করে।

গত শনি ও রোববার পাইকারি পেঁয়াজের হাট করমজার চতুরহাট, চিনাখড়া ও আতাইকুলায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ছোট আকারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে আরো কম দামে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ কৃষকরা বাড়ি ফিরছেন।

সাঁথিয়া উপজেলার তৈলকুপি গ্রামের কৃষক রমজান আলী, কাশিনাথপুরের বাবলু শেখ ও ইমদাদুল হক জানান, গড়ে প্রতিমণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও তারা প্রতিমণ পেঁয়াজ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভে বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ দাম অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় এখন প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তাদের ভাষ্য, মাঠে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে। লোকসানে বিক্রি করে অনেক কৃষক চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরছেন।

সাঁথিয়া উপজেলার পুন্ডুরিয়া গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী আক্ষেপ করে বলেন, ধারদেনা করে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম। এখন পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচই উঠছে না। তাই ধারদেনা শোধ তো দূরের কথা, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুরহাটের আবদুল মুন্নাফ এবং বোয়াইলমারী হাটের রাজা হোসেন নামের দুই পেঁয়াজ আড়তদার জানান, অর্ধেকের বেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ ইতিমধ্যে উঠেছে। মাঠে থাকা পেঁয়াজের বেশিরভাগই পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা দ্রুত তুলছেন। ফলে হাটে সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু সে তুলনায় ক্রেতার চাহিদা কম।

তারা আরো জানান, রমজানের শুরুতে পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কম থাকে। এ ছাড়া ৮-১০ দিনের মধ্যে নতুন হালি পেঁয়াজ হাটে উঠবে। এসব কারণেই দাম কমেছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রতি মণে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। সেখানে ১ হাজার বা ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে কৃষকরা চরম হতাশ। এমন দামের কারণে কেউ কেউ জমি থেকে পেঁয়াজ তোলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

পাবনা জেলা কৃষি তথ্য অফিস জানায়, পাবনায় মুড়িকাটা ও হালি এই দুই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। মুড়িকাটা পদ্ধতিতে অক্টোবর-নভেম্বরে আবাদ করা হয় এবং ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা হয়। অন্যদিকে হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আবাদ করে মার্চ-এপ্রিলে পেঁয়াজ তোলা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host