বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

পরকীয়ার জেরে খুন : ৪ বছর পর নিখোঁজ সালাউদ্দিনের কঙ্কাল উদ্ধার!

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৩ সময় দর্শন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় পাহাড় একটি কঙ্কাল উদ্ধার করেছে সিআইডি। ২০১৬ সালে দায়েরকৃত একটি মামলার সূত্রে শনিবার বিকেলে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। সিআইডির ধারণা কঙ্কালটি ওই সময় নিখোঁজ যুবক সালাউদ্দিনের (৩৫)। তবে ডিএনএ টেষ্টের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত কঙ্কালটি সালাউদ্দিনের কিনা তা নিশ্চিত নন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের দীঘিরপাড়া এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মো. সালাউদ্দিন ২০১৬ সালের ১২ জুন নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী হাসিনা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ মামলাটি দুই বছর তদন্ত করেও কোনো তথ্য না পেয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টার এটি সিআইডিতে স্থানান্তর করে।

১৩ আগস্ট ২০১৮ সালে সিআইডি এ মামলার তদন্ত শুরু করে। এ সময় মামলার সন্দেহভাজন আসামি একই এলাকার মো. আলমগীরকে (৩৩) গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠালেও আদালত থেকে জামিন পেয়েই সে লাপাত্তা হয়ে যায়। কিন্তু সিআইডি তদন্ত অব্যাহত রাখে। তদন্তে তারা জানতে পারেন, নিহত সালাউদ্দিনের চাচা মুছা কুমিরার পাহাড়ের নিচে চাষাবাদের সময় একটি মাথার খুলি দেখেছিলেন। এই খুলি সালাউদ্দিনের ধারণা করে তারা পারিবারিক কবরস্থান হাম্মাদিয়া মসজিদ প্রাঙ্গনে দাফন করেন। সিআইডি বিষয়ে চাচার সাথে কথা বলতে চেয়েও তিনি বিদেশ চলে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে চলতি মাসের ৩ তারিখে মুছা বিদেশ থেকে দেশে আসেন।

অন্যদিকে শনিবার সকালে গোপন সূত্রে আসামি আলমগীরের অবস্থান জানতে পেরে তাকে গ্রেপ্তার করেন সিআইডি। শেষে তদন্তের অংশ হিসেবে মাথার খুলি কুড়িয়ে পাওয়া মুছা ও আলমগীরকে নিয়ে সিআইডির ইন্সপেক্টর শরীফ যেখানে খুলি পেয়েছিলো সেখানে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়লে মাটির নিচ থেকে একটি কঙ্কাল পাওয়া যায়।

মামলার তদন্তকারী অফিসার সিআইডি চট্টগ্রামের ইন্সপেক্টর মো. শরীফ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তদন্তে তারা জানতে পারেন আসামি আলমগীর ও সালাউদ্দিনের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিলো। একবার আলমগীর জেলে যায়। এ সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে সালাউদ্দিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। আলমগীর জেল থেকে বের হয়ে পরকীয়ার কথা জানতে পারলে সালাউদ্দিনের সাথে তার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এর কয়েকদিন পরেই সালাউদ্দিন নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর তার স্ত্রী হাসিনা বাদী হয়ে প্রথমে জিডি ও পরে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আলমগীরকে আসামি করা হয়। তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পারেন ঘটনার নিখোঁজের আগের দিন সালাউদ্দিনের সাথে আলমগীর দফায় দফায় দীর্ঘ সময় কথা বলেন। ফলে তাকে সন্দেহ করা হয়। তিনি আরো বলেন আলমগীর একজন একজন কুখ্যাত অপরাধী। খুন-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ঘটনায় সে আগেও জেল খেটেছে একাধিকবার।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল ইসলাম ও কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোর্শেদুল আলম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। মাটি খুঁড়ে কঙ্কাল পাওয়া গেলেও এটি আসলেই সালাউদ্দিনের কিনা তা জানতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল ইসলাম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd