বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন

খালেদার এতো বিদেশপ্রীতি কেন: তথ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১
  • ৫৫ সময় দর্শন

বেগম খালেদা জিয়া ও তার দলের বিদেশপ্রীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, এগুলো বহু বছরের পুরোনো অসুবিধা। তার যে আর্থাইটিজের সমস্যা সেটি ২০ বছরের পুরোনো সমস্যা। সেই সমস্যা নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বিএনপির মতো একটি বড় দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সমস্যাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার দেখানো সমীচিন নয়।

শুক্রবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নতুন তালিকাভুক্ত শিল্পীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে, তার চিকিৎসা হচ্ছে না; দেশের বাইরেও নিতে দেয়া হচ্ছে না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তিনি আদালতের মাধ্যমে খালাস পাননি। আদালত থেকে জামিনও পাননি। তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে তাকে ছয়মাসের জন্য মুক্তি দিয়েছেন। যেটি একদফা বাড়ানো হয়েছে, আরও একদফা বাড়ানোর জন্য তারা আবেদন করেছেন। এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। তাকে বিদেশেই নিয়ে যেতে হবে এই প্রশ্ন কেন? চিকিৎসা তো বাংলাদেশেও আছে।’

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, হাঁটু বা কোমরের ব্যথা নিয়ে রাজনীতি না করতে বিএনপিকে অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, আদালত থেকে জামিন বা খালাস না পাওয়া সত্বেও খালেদাকে প্রধানমন্ত্রী মুক্তি দিয়ে ঘরে থাকার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, সেজন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেয়া। সেটি না দিয়ে বরং তিনি বলছেন, তাকে বিদেশ নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে তো অনেকেরই চিকিৎসা হয়, আমাদের অনেক এমপি করোনাকালে মৃত্যুবরণ করেছেন, কাউকে কিন্তু বিদেশ নিয়ে যাওয়া হয়নি। অনেকেই এ দেশে চিকিৎসা করে ভালো হয়েছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনিকভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। তারা আবার সরকারের পতনও চাচ্ছেন। আবার বলছেন আমরা কোনো করুণা চাই না। খালেদা জিয়া যে আজকে মুক্তি নিয়ে জেলখানার বাইরে ঘরে অবস্থান করছেন, সেটি বঙ্গবন্ধু কন্যার মানবিকতার কারণে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সেই নিবেদনটুকুই করেছিলেন। বিএনপি নেতাদের কথা এবং কাজের মধ্যে সবসময় দ্বিচারিতা। এই ক্ষেত্রেও আমরা সেটি লক্ষ্য করছি।’

নতুন তালিকাভুক্ত শিল্পীদের সংবর্ধনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যতোবেশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আমাদের তরুণ ও যুবকরা সম্পৃক্ত হবে ততবেশি তাদের মননশীলতার বিকাশ হবে। আজকে তরুণেরা যে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, মাদকাসক্ত হচ্ছে, এগুলো থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি বলেন, জঙ্গিবাাদ ও মৌলবাদ বিভিন্ন জায়গায় মাথাচাড়া দিয়েছে। আমরা অতীতে বিশ্লেষণ করে দেখেছি, যে সমস্ত জায়গায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেশি সেখানে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে যেন ব্যাপক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও উৎসব হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও বাংলাদেশ টেলিভিশনের আরও ছয়টি কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই প্রকল্প প্রি-একনেকে পাশ হয়েছে। শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে রাশেদ হাসান ও আঁখি মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজান উল আলম, একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার প্রমুখ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd