রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

ভাঙ্গুড়ায় ক্লিনিকে অভিযান নিয়ে স্বাস্থ্য প্রশাসকের প্রেস ব্রিফিং! 

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১ জুন, ২০২২
  • ৫৯ সময় দর্শন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বে-সরকারি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনার বিষয় নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: হালিমা খানম (লিমা)।

বুধবার (১ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনফারেন্স রুমে এ প্রেস ব্রিফিং হয়।

ব্রিফিংকালে ডা: হালিমা খানম জানান, গত ২৯ মে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আলামিন হোসেন ও মেডিকেল অফিসার শাহিন রেজাকে নিয়ে তিনি উপজেলার ৮টি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন।

তিনি বলেন, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নিবন্ধন বিহীন কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নেই। এজন্য কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান। অবশ্য কয়েকটি ক্লিনিকের নিবন্ধন আপডেট নাই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধনধারী ক্লিনিক বা ডায়ানগস্টিক মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ হিসাবে ওই কর্মকর্তা জানান, নিবন্ধন আপডেট করতে তাদের একমাস সময় দেওয়া হয়েছে।

এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিাকিৎসকবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শর্তানুযায়ী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক পরিচালনার ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক লাইসেন্স লাগবে। যাদের দুটোই নেই তাদের প্রতিষ্ঠান অবৈধ বলে গন্য হবে। আর লাইসেন্সের মেয়াদ হবে মাত্র এক বছর (জুলাই টু জুন)। নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পরবর্তী এক মাসের মধ্যে নবায়ন না করলে তার লাইসেন্সই বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠান সীলগালা করতে হবে।

তথ্য মতে, ভাঙ্গুড়ার ৮টি বে-সরকারি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার রয়েছে। চলতি বছরে ৬টি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে রেজিষ্ট্রেশন নবায়ন করা নেই। হেল্থ কেয়ার হাসপাতাল এন্ড লিমিটেডের ২০২০/২১, ইউনিকেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০২০/২১, বড়াল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০১৮/১৯, নিরাপদ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০২০/২১, তাহিয়া ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০২১/২২, হাসান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০২১/২২, রোমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০২০/২১ ও সমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ২০২০/২১ অর্থ বছরের নবায়ন করা রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের আবাসিক চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নেই। কারো কারো প্রচারপত্রে যেসব টেস্টের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো পরীক্ষার সামর্থও তাদের নেই। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও নার্সের অভাব রয়েছে। কোনো কোনো চিকিৎসকের আবার বিএমডিসির সনদ নাই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে রোগীরা প্রায়ই ভুল চিকিৎসার শিকার হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লিনিকের মালিক বলেন, চিকিৎসকেরা কোনো না কোনো ক্লিনিকে প্রাকটিস করেন। তাই তারা অনেক বিষয় গোপন করছেন। এতে সরকারের সাঁড়াশি অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, প্রেস ব্রিফিংয়ের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া এখানে কয়টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে সেব সম্পর্কে কোনো নথি ইউএনও অফিসে দেওয়া হয়নি। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সমন্বয়ে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd