বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

নগরায়ণের ফলে বাড়ছে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪০ সময় দর্শন
নগরায়ণের ফলে বাড়ছে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি
প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্কঃ

দ্রুত নগরায়ণ হওয়া, ১০-১২ ঘণ্টা বসে কাজ করা, সপ্তাহে তিন বারের বেশি ফাস্টফুড খাওয়া, স্থূলতা এবং অধিক কসমেটিক ব্যবহারের কারণে নারীদের মধ্যে বাড়ছে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা। এ সব বিষয়ে সচেতন হলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। গতকাল বিএমএ ভবনের শহিদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভা কক্ষে আয়োজিত ‘স্তন ক্যানসারে পেশাগত ঝুঁকি’ বিষয়ক সচেতনতামূলক গোলটেবিল বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ সব তথ্য তুলে ধরেন। ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি বিকনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ক্যানসার স্ট্যাডি গ্রুপ ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

জাতীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ৪০ বছরে সবচেয়ে বেশি নগরায়ণ হয়েছে বাংলাদেশে। ফলে এশিয়ায় প্রতি দুই মিনিটে এক জন করে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। কর্মজীবীদের মধ্যে প্লাস্টিকের বোতলে পানি পানের প্রবণতা বেশি। তবে একবার ব্যবহূত প্লাস্টিকের বোতলের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পানের ফলে মুখের লালার সঙ্গে প্লাস্টিকের স্পর্শে ‘বিপিএ’ নামের এক ধরনের বিষক্রিয়া শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে নারীদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের ঝুঁকি ৩ শতাংশ বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, দেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের হার ব্যাপক। ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ক্যানসার ধরা পড়ে চতুর্থ স্তরে। তবে আগে থেকে প্রতিরোধ করতে পারলে বা কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে ঝুঁকি কমানো যায়। জীবন যাপনের পরিবর্তন করে, পরিবারে রক্তের সম্পর্কের মধ্যে যদি কারো স্তন ক্যানসার হওয়ার ইতিহাস থাকে তাহলে দ্রুত স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষা নিতে এসে যে পরিবেশের ভেতর দিয়ে আমাদের যেতে হয়, তাতে করে নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। যারা গ্রামে বাস করে, তারা প্রকৃতির সান্নিধ্য পায়, তাদের ঝুঁকি কম। দেশ যত শিল্পায়নের দিকে ঝুঁকবে, তত স্তন ক্যানসারসহ অন্য ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়বে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন দরকার। কারণ দেশে প্রায় ৫০ বছর আগে ক্যানসারের চিকিৎসাসেবা শুরু হলেও রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী সেবার মান ও পরিধি বাড়েনি। দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটা করে ক্যানসারকেন্দ্র দরকার। সে হিসেবে ১৬০টি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে সচল ও বিকল মিলে আছে মাত্র ২০টি কেন্দ্র, যা চাহিদা অনুযায়ী খুবই কম। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ১৬ লাখ ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এর সঙ্গে প্রতি বছর নতুন করে যোগ হয় ২ লাখ।

এই রোগীদের ৭০ শতাংশই চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর এ খাতে ৫ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা জাতীয় রাজস্বের অপচয় হচ্ছে। যেটা জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ। তিনি বলেন, স্তন ক্যানসার মেয়েদের গোপন অঙ্গের রোগ হওয়ায় প্রাথমিকভাবে লজ্জা ও অসতেনতায় তারা তা প্রকাশ করে না। ফলে রোগটির তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজে এসে ধরা পড়ে। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তৃতীয় ধাপেও স্তন ক্যানসার নির্মূল করা সম্ভব। অক্টোবর মাস বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস। এ জন্য যার যার স্থান থেকে সচেতন করে তুলতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সহসভাপতি জান্নাতুল বাকেয়া কেকা, সঞ্চালন করেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রাব্বি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd