বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

চার লেনের সড়ক হবে ডিএনসিসির নতুন ১৮ ওয়ার্ডে

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৩ মার্চ, ২০২১
  • ৪৫ সময় দর্শন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) তাদের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে অবকাঠামো উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে এসব ওয়ার্ডের উন্নয়নে চার হাজার ২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে রাস্তাঘাট-ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন, ১৩টি খালের উভয় পাশে হাঁটাচলা এবং বাইসাইকেল লেন তৈরি করা হবে। এছাড়া দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইউটিলিটি ডাক্ট’ নির্মাণ করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। অর্থাৎ এসব ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ, ক্যাবল টিভি, টেলিফোন, ইন্টারনেট এসব পরিসেবার তার যাবে মাটির নিচ দিয়ে। ফলে থাকবে না ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল।

ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোর ১০০ বছরের মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই প্রকল্পের নকশা করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য প্রকল্প থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচের।

ডিএনসিসির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নতুন ১৮ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তারা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে চার বছরে এই ১৮টি ওয়ার্ডে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখন ডিএনসিসির এই উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য। তবে প্রকল্পটি যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়, ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা খেয়াল রাখতে হবে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা এবং অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোর ১০০ বছরের মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই প্রকল্পের নকশা করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য প্রকল্প থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচের। প্রকল্পের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। তা বাস্তবায়ন হলে নতুন ওয়ার্ডে বসবাসকারীদের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে।’

২০১৬ সালের জুনে ঢাকার নাগরিক সেবা বাড়াতে হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাতারকুল ও ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে এলাকাগুলোকে ডিএনসিসির অধীনে নেয় সরকার। তখন এই ইউনিয়নগুলোকে ১৮টি ওয়ার্ডে ভাগ করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই ওয়ার্ডগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে তেমন কোনো কাজ করেনি সংস্থাটি। এখনো অধিকাংশ ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট কাঁচা, নেই সড়কবাতি ও ফুটপাত। খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরা। দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। এর মধ্যে সম্প্রতি কয়েকটি খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে।

ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, গত বছরের জুলাইয়ে ওই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে মোট ১৮২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে প্রধান সড়কগুলো চার লেন (৩৩ কিলোমিটার) করা হবে। দুই লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার। বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ক্যাবলসহ অন্যান্য তার মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যেতে ‘ইউটিলিটি ডাক্ট’ নির্মাণ করা হবে ৯৭ কিলোমিটার। এই খাতে ব্যয় হবে ৭৪৩ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে ২৩৩ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ৫১ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতি কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণে ব্যয় হবে চার কোটি ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।

ওই ১৮টি ওয়ার্ডে খালের সংখ্যা ১৩টি। দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ দশমিক ৫১ কিলোমিটার। এই খালগুলোর উভয় পাশে হাঁটাচলার পথ ও সাইকেল লেন নির্মাণ করা হবে ৫৮ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ৫৬ লাখ ছয় হাজার টাকা।

এছাড়া এসব ওয়ার্ডে মোট ১২ হাজার ২৬৭টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২০ কোটি ২৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এই অর্থের মধ্যে বাতির দাম, পোল, ক্যাবল, সুইচ এবং আনুষঙ্গিক খরচ ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘খালগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে নকশা তৈরির কাজ চলছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শিগগির এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd