সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

কলকাতার আকাশে দেখা দেবে সেই আগন্তুক, ফিরবে ৬৮০০ বছর পরে

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
  • ১৮৭ সময় দর্শন

ডিডিএন ডেস্ক :  চলতি বছরের ২৭ মার্চ আচমকাই নাসার ওয়াইডফিল্ড ইনফ্রারেড সার্ভে এক্সপ্লোরার স্পেস টেলিস্কোপ জানান দিয়েছিল, পৃথিবীর কাছে আসতে চলেছে নতুন এক আগন্তুক। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, আজ, মঙ্গলবার থেকেই কলকাতার আকাশে দেখা দেবে সেই ধূমকেতু। তার নাম নিয়োওয়াইজ (সি/২০২০-এফ৩)।

কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের অধিকর্তা সঞ্জীব সেন জানান, জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্তের পরে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের কাছে কিছুক্ষণ এই ধূমকেতুকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে দেখা গেলেও শহরাঞ্চলে দূরবিনের সাহায্যেই দেখা যেতে পারে। অগস্টেও দূরবিনের সাহায্যে দেখা যেতে পারে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত।

ধূমকেতু সূর্যকে অতিমাত্রায় উপবৃত্তাকার পথে পরিক্রমণ করে। এক বার পাক খেতে যে সময় লাগে তাকে বলে পরিক্রমণ কাল। নিয়োওয়াইজের পরিক্রমণ কাল এইমুহূর্তে গণনা করে  জানা গেছে প্রায় ৬৮০০ বছর। অর্থাৎ সে আবার দেখা দিতে পারে ৬৮০০ বছর পরে।

বিজ্ঞানীরা জানান, ‘শর্ট পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের কম (যেমন হ্যালির ধূমকেতুর প্রায় ৭৬ বছর) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় কুইপার বেল্ট থেকে। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৩০ থেকে ৫০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট। কিন্তু ‘লং পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের বেশি (যেমন এই নিয়োওয়াইজ) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে থাকা উর্ট ক্লাউড অঞ্চলে। নিয়োওয়াইজের সেই এলাকা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

সঞ্জীববাবু জানান, ধূমকেতুর কেন্দ্রে থাকে বরফ ও ধুলো। সূর্যের কাছাকাছি এলে বরফ বাষ্পীভূত হয়ে গ্যাস তৈরি করে এবং গ্যাসীয় কণাগুলি তড়িদাহত হয়। ধুলো ধূমকেতুর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সূর্য যে দিকে রয়েছে তার বিপরীতে ছুটতে থাকে। তাকেই লেজ বলে। গত ৩ জুলাই সূর্যের কাছ দিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নতুন আগন্তুকেরও দুটি লেজ তৈরি হয়েছে। একটি আয়নিত গ্যাসের, অন্যটি ধুলোর। ধুলোর উপরে সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

সঞ্জীববাবু জানান, ২২ থেকে ২৪ জুলাই পৃথিবীর সব থেকে কাছে থাকবে এই ধূমকেতু। তখন পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব হবে প্রায় ১০ কোটি ৩০ লক্ষ কিলোমিটার। সে সময় তার অবস্থান হবে উত্তর-পশ্চিম আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল নক্ষত্রপুঞ্জে। জুলাই পেরোনোর পরেই ধীরে ধীরে সে দূরে যাত্রা করবে। আবার হয়তো ফিরবে ৬৮০০ বছর পর! আনন্দ বাজার

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd