মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৯ অপরাহ্ন

ভাঙ্গুড়া উপজেলার কতিপয় বিশিষ্ট গুণিজন

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০
  • ১৫ সময় দর্শন

এম হোসেন আলী :
জন্ম : ফেব্রæয়ারি ১, ১৯২৩ সাল, মৃত্যু : জানুয়ারি ২, ১৯৮১ (অটোয়া)।
ভাঙ্গুড়ার গর্বিত সন্তান মুক্তি যোদ্ধা এম হোসেন আলী ভারতের কলকাতায় পাকিস্তান দূতাবাসে ডেপুটি হাই কমিশনার হিসাবে কর্মরত ছিলেন । ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে বাংলাদেশের বিপ্লবী সরকার শপথ গ্রহনের পরের দিন ১৮ এপ্রিল তার মিশনের ৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পাকিস্তান পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের আনুগত্য ঘোষনা করেন । সেই সঙ্গে তিনি দূতাবাস ভবনের শীর্ষ থেকে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পত্াকা উড়ান । বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এটা ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা যা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরনার ঊৎস্য হিসাবে কাজ করে । তখন থেকে জনাব হোসেন আলী ভারতে বাংলাদেশ মিশনের প্রথম প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন এবং স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত ঐ পদে কর্তব্যরত ছিলেন ।
যুদ্ধকালিন সময়ে সেখানে বাংলাদেশের শরনার্থীদের আশ্রয়,মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষন ও অস্ত্রের ব্যবস্থাসহ মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সরকারের সক্রিয় সহায়তা প্রদানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। ১৯৭৩ সালের জানুয়ারিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হোসেন আলীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করেন ।
এম.হোসেন আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া গ্রামে সম্ব্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম : মরহুম তাহের মাহমুদ,মাতার নাম : নুরজাহান বেগম। তিনি ১৯৪৯ সালে পাকিস্তান পররাষ্ট্রবিভাগে যোগদান করেন। ১৯৮১ সালে ভাঙ্গুড়া থানা প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

হাজী মুহাম্মদ মহসীন আলী :
জন্ম : ১৯০২ সাল, মৃত্যু : সেটেম্বর ২৬, ২০০০ সাল।
এক সম্ব্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন হাজী মুহাম্মদ মহসীন আলী। তার পিতার নাম:খবির উদ্দিন সরদার সরদার,মাতার নাম: বেগম লতিফুন্নছা । তিনি একাধারে সমাজ সেবক,শিক্ষানুরাগী, জনপ্রতিনিধি ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসাবে জনসেবার পাশাপাশি তৎকালিন সময়ে সদরের সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ ও নারী শিক্ষা বিস্তারে ভাঙ্গুড়া মহিলা ডিগ্রী কলেজ,হাজী গয়েজ উদ্দিন মহিলা মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছে। তিনি হাজী জামাল উদ্দিন কলেজে অনেক মুল্যবান সম্পত্তি দান করেন। শিক্ষা-সাহিত্য,সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তার অবদান স্মরনীয়। আধুনিক ভাঙ্গুড়ার রুপকার হিসাবে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৮১ সালে ভাঙ্গুড়া থানা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি মুখ্য ভুমিকা পালন করেন। মরহুমের নিবাস ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সরদারপাড়া মহল্লায় । হাজী মুহাম্মদ মহসীন আলীর একমাত্র পুত্র আলহাজ মকবুল হোসেন পাবনা-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রপৌত্র গোলাম হাসনাইন রাসেল ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র।

মোঃ মযহারুল ইসলাম :
জন্ম : অক্টোবর ১, ১৯১৯ সাল, মৃত্যু : ফেব্রæয়ারি ৫, ২০০০ সাল।
মোঃ মযহারুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া উপজেলার নৌবাড়িয় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম মোঃ সিরাজ উদ্দিন সরদার,মাতার নাম : মোছাঃ গুলশান বেগম। তিনি এসডিও হিসাবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। ১৯৪২ সালে তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালে দিনাজপুর জেলার ডেপুটি কমিশনার হিসাবে পদোন্নতি নিয়ে অবসর গ্রহন করেন। তিনি অবসর জীবন নিজ গ্রামে কাটিয়েছেন। এ সময় তিনি ইসলামী গবেষণা,বই পড়া ও লেখালেখি করেছেন। চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে তৎকালিন ভাঙ্গুড়ায় মহকুমা স্থাপনের স্বপ্ন ছিল তার।

আবু মুহাম্মদ ইউনুছ :
জন্ম : মার্চ ১, ১৯২৩, মৃত্যু : ফেব্রæয়ারি ১৪, ২০০৫ সাল।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার সারুটিয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন আবু মুহাম্মদ ইউনুছ আলী। তার পিতার নাম : বাবর আলী, মাতার নাম : সামিরন নেছা খান। প্রথম জীবনে একজন আবহবিদ ছিলেন। কলকাতার বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর একমাত্র রুমমেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোদ্ধা হিসাবে রাজনীতিতে তার আবির্ভাব ঘটে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে তিনি মনোনয়ন পেয়ে এমএলএ নির্বাচিত হন। তৎকালে ভাঙ্গুড়াসহ এতদাঞ্চলে শিক্ষা,সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতনের মডেলে ভাঙ্গুড়ায় বিশ্বমানের একটি নারী শিক্ষা আয়তন গড়ে তুলতে তিনি উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন।

মোঃ গোলাম মওলা :
জন্ম : ফেব্রæয়ারি ৯, ১৯২৭, মৃত্যু : এপ্রিল ১৫, ২০১৮ সাল।
মোঃ গোলাম মওলা ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলিপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম দবির উদ্দিন সরকার ও মাতার নাম আয়জান নেছা। তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও ভাঙ্গুড়া থানা প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা ও উন্নয়নমুলক কাজের সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িত ছিলেন। জীবদ্দশায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি সাথে তার সক্রিয় অংশ গ্রহন ছিল। সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির তিনি আজীবন সভাপতি ছিলেন।

আলহাজ মোঃ আবেদ আলী :
জন্ম : ১৯০৯ সাল, মৃত্যু : মার্চ ১৯৯৯ সাল।
মোঃ আবেদ আলী ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া গ্রামে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম : হাজী সবেতুল্লাহ,মাতার নাম: গোলেজান খাতুন। তিনি একজন সমাজ সেবক,শিক্ষানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে অনেক মুল্যবান সম্পত্তি দান করেন। এ ছাড়া হাজী মুহাম্মদ মহসীন আলীর ঘনিষ্ঠ সহচার্য হিসাবে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়নমুলক ওতপ্রতভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ভাঙ্গুড়া থানা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি ইতিবাচক ভুমিকা রাখেন।

মোঃ আফজাল হোসেন ঃ
জন্ম : এপ্রিল ১৭,১৯২২ সাল, মৃত্যু : নভেম্বর ৪, ১৯৯৪ সাল।
মোঃ আফজাল হোসেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার রাঙ্গালিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম হাজী আব্দুর রহিম ও মাতা জরিনা খাতুন। ভদ্র,বিনয়ী সুশিক্ষিত ব্যক্তি আফজাল হোসেন এলাকায় সাহেব বলে সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধারে রাজনীতিক,শিক্ষানুরাগী ও সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ভাঙ্গুড়া থানা প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। তিনি নারী শিক্ষা বিস্তারে ভাঙ্গুড়া জরিনা-রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় তার বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

আলহাজ মোঃ মকবুল হোসেন :
সদালাপি,পরোপকারি ও গনমানুষের আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব আলহাজ মোঃ মকবুল হোসেন ১৯৫০ সালের ২০ জানুয়ারি ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরদার পাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম হাজী মুহাম্মদ মহসীন আলী ও মাতার নাম মিহিরুন নেছা। তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রথম ও পর পর দু’বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হিসাবে দলকে সুসংগঠনে সক্রিয় ভুমিকা রাখায় জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে দলীয় মনোনয়ন দেন। তিনি একটানা তিন বার পাবনা-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভুমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি। বিগত সংসদে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। কৃষি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় কৃষি পদক লাভ করেন।
তিনি ভাঙ্গুড়াসহ তার নির্বাচনি এলাকার শিক্ষা,সংস্কৃতি,অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। এখানকার তিনটি কলেজ ও তিনটি হাইস্কুল সরকারিকরণে তাঁর মুখ্য ভুমিকা রয়েছে। চলনবিলের দুর্গম এলাকায় পাকা সড়ক ও বড় ব্রিজ নির্মাণ করে যোগাযোগ ক্ষেত্রে তিনি অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছেন। তার মার্জিত,সহনশীল ও উদার নেতৃত্বের গুণে এলাকায় ধাবাহিকভাবে শান্তি শৃংখলা বজায় রয়েছে। জনদরদি নেতা হিসাবে তিনি এলাকার দরিদ্র,অসহায় ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা এনে বন্টন করেছেন।।

সংকলনে : মাহবুব-উল-আলম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd