শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উল্লাপাড়া পৌরসভার ভোটগ্রহণ ৭টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ বরুণ ধাওয়ান ও নাতাশা দালালের বিয়ে মুম্বাই শহরের আলিবাগে বিশ্বে করোনাভাইরাসে ২০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু রাণীশংকৈল দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের শুভ উদ্ভোধন ও অভিষেক অনুষ্ঠান পাবনার ভাঙ্গুড়া,চাটমোহর ও ফরিদপুর প্রেসক্লাব সাংবাদিক ফোরাম গঠিত ভাঙ্গুড়া পৌরসভা নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন:ভোট কাল:মেয়র ও এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিনা প্রদ্বিন্দিতায় নির্বাচিত করোনা টিকা ছাড়ছে বেক্সিমকো, প্রতি ডোজ ১১২৫ টাকা! ওজন কমাতে মৌসুমি ফল রাখুন খাদ্য তালিকায় আমি মুখ খুললে জায়েদ মুখ দেখাতে পারবে না: পপি টের স্টেগেন প্রতিপক্ষের প্রথম দুটি শট ঠেকিয়ে ফাইনালে নিল বার্সাকে

পাবনা – ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন(অবঃ)সাইফুল আজম আর নেই

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০
  • ৯ সময় দর্শন

 নিউজ ডেস্ক । পাবনা-৩ আসন থেকে (চাটমোহর উপজেলাফরিদপুর উপজেলা ও ভাঙ্গুড়া উপজেলাবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে পঞ্চম জাতীয় সংসদের  নির্বাচিত সদস্য সাইফুল আজ সুজা আজ রোববার ১৪ জুন সকালে ঢাকার মহাখালি ডিএসএইচও’র তার নিজস্ব বাস ভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সাইফুল আজম ১৯৪১ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশপাবনা জেলার খগড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পর ১৯৫৬ সালে তিনি পশ্চিম পাকিস্তান যান। ১৯৬০ সালে তিনি জিডি পাইলট ব্রাঞ্চের একজন পাইলট হন।

১৯৬৭ সালের ৬ জুন তাকে ইরাকি বিমান বাহিনীতে বদলি করা হয়। বিমানঘাঁটি আক্রমণের সময় তিনি পশ্চিম ইরাকে ছিলেন। ইসরায়েলি পাইলট ক্যাপ্টেন গিডিওন ড্রোর সাইফুল আজমের উইংমেনসহ দুজন ইরাকি যোদ্ধাকে গুলি করতে সক্ষম হন, কিন্তু তিনি গুলি করে তাকে ভূপাতিত করেন। সাইফুল আজম একটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করেন এবং আরেকটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম (জন্ম ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ) একজন অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালের পূর্বে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল ফখরুল আজম (মেয়াদ ২০০২-২০০৭) তার ভাই ।

প্রথম কর্মজীবন

সাইফুল আজম তার বর্ণাঢ্য জীবনে নিজেই কিংবদন্তীর ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। পৃথিবীর বাইশজন “জীবিত ঈগলের” তিনি ছিলেন অন্যতম”

সিসেনা টি-৩৭ বিমানের প্রশিক্ষণ ও অ্যারিজোনার লুক এয়ার ফোর্স বেসে এফ-৮৬ সেব্রেসের উপর আরও পড়াশোনার পর ১৯৬৩ সালে তিনি সংক্ষিপ্তকালের জন্য ঢাকায় নিযুক্ত হন। এরপর তিনি করাচির মাউরিপুরে টি-৩৩ এর প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। এখানে কর্মরত থাকার সময় ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুদ্ধের সময় এফ-৮৬ নিয়ে ভারতে উড্ডয়নে অংশ নেন। ভারতীয় বিমান বাহিনীর অফিসার মায়াদেবের বিমানকে তিনি ভূপাতিত করেন। তাকে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক পদক সিতারায়ে জুরাত প্রদান করা হয়। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ২য় স্কোয়াড্রনের কমান্ড লাভ করেন।

১৯৬৬ সালের নভেম্বরে তাকে জর্ডানের বিমান বাহিনীতে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। ডেপুটেশনে পাঠানো দুজন পাকিস্তানি অফিসারের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। অন্যজন ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম. সরোয়ার শাদ। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধ শুরু হলে তিনি হকার হান্টার নিয়ে জর্ডানের বিমান বাহিনীর পক্ষে উড্ডয়ন করেন। দুই দিনের ব্যপ্তিতে তিনি দুইটি ভিন্ন স্থানে আক্রমণ পরিচালনা করেন। এজন্য তাকে জর্ডানের অর্ডার অব ইসতিকলাল ও ইরাকি সাহসিকতা পদক নুত আল শুজাত প্রদান করা হয়।

১৯৬৭ সালের ৫ জুন ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলা থেকে জর্ডানের মূল বেস মাফরাকের প্রতিরক্ষার জন্য তাকে ডাকা হয়। চারটির মধ্যে একটি বিমান পাকিস্তানিরা উড্ডয়ন করে। সাইফুল আজম একটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করেন এবং আরেকটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ১৯৬৭ সালের ৬ জুন তাকে ইরাকি বিমান বাহিনীতে বদলি করা হয়। বিমানঘাঁটি আক্রমণের সময় তিনি পশ্চিম ইরাকে ছিলেন। ইসরায়েলি পাইলট ক্যাপ্টেন গিডিওন ড্রোর সাইফুল আজমের উইংমেনসহ দুজন ইরাকি যোদ্ধাকে গুলি করতে সক্ষম হন, কিন্তু তিনি গুলি করে তাকে ভূপাতিত করেন। তিনি ক্যাপ্টেন গোলানের বোমারু বিমানকেও ভূপাতিত করেন। তাদের দুজনকেই যুদ্ধবন্দি হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরবর্তী জীবন

১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসেন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত সময় ফ্লাইট কমান্ডার হিসেবে বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ডিরেক্টর অব ফ্লাইট সেফটি ও ডিরেক্টর অব অপারেশন্স হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি ঢাকা বিমানঘাঁটির কমান্ড লাভ করেন এবং ১৯৭৭ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে পদোন্নতি পান।

১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নেন। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। তিনি নিম্নোক্ত পদে আসীন ছিলেন:

  • চেয়ারম্যান, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (সিএএ), দুইবার
  • ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এফডিসি)
  • পাবনা-৩ আসন থেকে (চাটমোহর উপজেলাফরিদপুর উপজেলা ও ভাঙ্গুরা উপজেলাবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে পঞ্চম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তা,ব্রিজ-কার্লভাট,কৃষি খাত,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ ও বিভিন্ন দপ্তরের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে সৎ,কর্তব্যনিষ্ঠা পরায়ন ও পরোপকারী ছিলেন।
  • পরে তিনি নাতাশা ট্রেডিং এজেন্সির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে ও নিজ স্ত্রীর সাথে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে ব্যবসায় যোগ দেন।

কর্মক্ষেত্রে অর্জন

সাইফুল আজম একমাত্র সামরিক পাইলট যিনি যুদ্ধে চারটি বিমান বাহিনীর (বাংলাদেশজর্ডানইরাক ও পাকিস্তান) জন্য কাজ করেছেন। সেই সঙ্গে দুইটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের (ভারত ও ইসরায়েল) বিরুদ্ধে লড়াই করার অনন্য কৃতিত্ব তার রয়েছে। ২০১২ সালে পাকিস্তান সরকারের মতে যেকোনো পাইলটের চেয়ে বেশি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করার রেকর্ড তার রয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী ২০০০ সালে তাকে সম্মানিত করে এবং তিনি “পৃথিবীর বাইশজন “জীবিত ঈগলের” অন্যতম”।

সংকলনে – মাহবুব-উল-আলম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২০© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন - রায়তা-হোস্ট সহযোগিতায় : SmartiTHost
smartit-ddnnewsbd